ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অবসর নিয়ে প্রশ্নবানে জর্জরিত পর্তুগাল কোচ!
পর্তুগাল জাতীয় দল থেকে এই মহাতারকার বিদায়ের জন্য নিজেকে দায়ী মনে করেন না জর্জে জেজুস।
ফুটবল ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অবসরের পর, প্রথম স্কোয়াড দিয়েছেন পর্তুগাল কোচ জর্জে জেজুস। তবে দল ঘোষণার সময়, তার সঙ্গে মহাতারকার বিদায়ের আগে তৈরি হওয়া মতপার্থক্য নিয়ে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় তাকে।
৪১ বছর বয়সি রোনালদো বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যমে অবসরের ঘোষণা দেন। এর মধ্য দিয়ে পর্তুগালের হয়ে তার ২৩৪ ম্যাচ ও ১৪৬ গোলের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটে।
পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন ওই দিনই এক বিবৃতিতে জানায়, দেশের মহানায়ককে এভাবে বিদায় দিতে চায় না তারা। ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েঙ্কা শুক্রবার রোনালদোর অবদানকে উদযাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে এই ফরোয়ার্ড বিদায়ী কোনো ম্যাচ খেলতে রাজি হবেন কি না, সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।
দল ঘোষণার আগে প্রোয়েঙ্কা বলেন, “পর্তুগিজ ফুটবল এবং পর্তুগালের জন্য তিনি যা কিছু করেছেন, তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে কোনো সম্মাননাই যথেষ্ট নয়। যে লেগ্যাসি তিনি রেখে গেছেন, তাকে সম্মানিত করতে আমরা সম্ভাব্য সবকিছু করব। তার প্রতিটি কাজই সম্মান ও উদযাপনের দাবি রাখে।”
এই মাসে উয়েফা নেশন্স লিগে ওয়েলস ও ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য পর্তুগাল কোচ সাত জন নতুন খেলোয়াড়কে দলে নিয়েছেন, যার মধ্যে পাঁচ জন অনূর্ধ্ব-২১ দলের খেলোয়াড়। তবে পুরো সংবাদ সম্মেলনে রোনালদোর বিদায়ই ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ডেনমার্কের বিপক্ষে নেশন্স লিগের ম্যাচের আগে অনুমতি ছাড়াই রোনালদো পর্তুগাল দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান এবং আর ফেরেননি। পরবর্তীতে তিনি অভিযোগ করেন, কোচ জেজুস তাকে দেওয়া কথা না রাখায় তিনি ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এই বিবাদ নিয়ে সাংবাদিকরা বারবার প্রশ্ন করলে জেজুসকে বেশ বিরক্ত হতে দেখা যায়। তিনি বারবারই বলেন যে, রোনালদোকে নিয়ে নয়, বরং দল নিয়েই তিনি কথা বলতে চান।
“আমার সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে দলের কথা মাথায় রেখেই। কোচ হিসেবে আমি সবসময় দলের জন্য যা সেরা, তা-ই করেছি। আমার সিদ্ধান্ত নিয়ে আমি সন্তুষ্ট।”
জেজুস আরও জোর দিয়ে বলেন যে, কারো প্রতি তার কোনো ক্ষোভ নেই।
পর্তুগাল কোচ জানান, বৃহস্পতিবার অবসর ঘোষণার আগ পর্যন্ত রোনালদো তার পরিকল্পনার অংশই ছিলেন এবং এই বিষয়ে আগে থেকে কিছু জানতেন না তিনি।
“সবাই যখন জানতে পারল, আমিও তখনই জেনেছি। এর আগে আমি কিছুই জানতাম না। সে খেলছিল, গোল করছিল; আমার স্কোয়াডের খেলোয়াড়দের একজন ছিল সে।”
জেজুস জানান, এরপর তিনি আর রোনালদোর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।
রোনালদোর এভাবে বিদায়ের জন্য নিজেকে দায়ী মনে করেন না জেজুস।
“না... হয়তো আমি ভালোমতো না ভেবে কাজটা করে ফেলেছিলাম, তবে এখানে আমার দোষ ছিল না।”
সর্বশেষ খবর
আরওখবরের লিংক: https://sottersokal.com/news/n261107-p1p1g7jr
© দৈনিক সত্যের সকাল | Daily Sotter Sokal · নির্বাহী সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আনাস মোল্লা